যদি কখনও হারিয়ে যাই __ রেদোয়ান মাসুদ

যদি কখনও হারিয়ে যাই না ফেরার দেশে,
আমার কথা কখনও কি পড়বে তোমার মনে।
যদি কখনও খবর পাও আমার চলে যাওয়ার কথা,
হৃদয়ে জাগবে কি তোমার একটুখানি ব্যাথা?
চলে গেলে দিও বিদায় হাসি ভরা মুখে,
আমার জন্য এক ফোটা জল ফেলোনা ঐ চোখে।
আকাশের দিকে তাকিয়ে বলবে, লক্ষ তারার মাঝে,
এত তাঁরার মাঝে একটি তাঁরার খবর কেউ কি কখনও রাখে?

হারিয়ে গেছে সে __ রেদোয়ান মাসুদ

হারিয়ে গেছে সে কোন এক মেঘলা দিনে
বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া হয়ে
রোদ্রের সাথে কোন এক ভোরবেলায় কুয়াশা হয়ে
কোন এক শেষ বিকেলে গোধূলি লগনে।
হারিয়ে গেছে সে কোন এক অমাবস্যার রাতে
ভয়ংকর কালো অন্ধকার হয়ে
ঘন কালো মেঘের আড়ালে কোন এক বর্ষা কালে
কোন এক অচেনা নদীর স্রোতের সাথে।
হারিয়ে গেছে সে কোন এক প্রাচীন যুগে
হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা হয়ে
মহাকালের সাথে কোন এক ভয়ানক দিনে
গন্তব্যহীন কোন এক পথের সাথে।
হারিয়ে গেছে সে কোন এক জ্যোৎস্না রাতে
কারো হৃদয়ে আলোকিত করে
সঙ্গী হয়ে কোন এক অদ্ভুত মহামানবের সাথে
কোন এক অভাগাকে অন্ধকারে ফেলে।

ভালবাসি __ রেদোয়ান মাসুদ

শুধু একটি বার বল ভালবাসি
তোমাকে আর কোনদিন ভালবাসতে হবে না।
মরুভূমির তপ্ত বালিতেও পা দিতে হবে না।
আমার জন্য তোমকে নিশি রাতে পা ভিজাতে হবে না।
আকাশ বাতাস শুনুক তোমার প্রতিধ্বনি।
সবাই জানুক কেউ আমাকে ভালবেসেছিল।
আমার হৃদয়ের ডাকে কেউ সাড়া দিয়েছিলো।
শুধু এতটুকুই আমি চাই, এর চেয়ে বেশি চাই না।
কাছে আস বা না আস, তাতে আমার কোন আপত্তি নেই।
হৃদয়কে না হয় একটি বার হলেও সান্তনা দিতে পারব
কেউতো অন্তত একটি বার হলেও প্রাণের ছোয়া দিয়েছিল।
কয়েক সেকেন্ড এর জন্য হলেও শুকিয়ে যাওয়া নদীতে
আবার ঝড়ের বেগে অশ্রুর বন্যা বয়েছিল।
শুধু এতটুকুই আমি চাই, এর চেয়ে বেশি চাই না।
এর জন্য তুমি কি চাও?
হয়তোবা আমি তোমাকে আকাশের চাঁদটি এনে দিতে পারবোনা
পূর্ব দিকে উঠা সূর্যটিকেও হাতে তুলে দিতে পারবোনা।
কিন্তু পারবো তোমার জন্য আমি রজনীর পর রজনী জেগে থাকতে
পারবো আজীবন তোমার জন্য অপেক্ষা করতে।
হয়তো আমার এই শুন্য হৃদয়ে এক সময় কেউ স্থান করে নিবে
কিন্তু তুমিতো আর আমার হলে না।
কি হবে ভরে এই শুন্য হৃদয় ?
আমি তো চাইনি অন্য কেউ এসে আমার হৃদয়ে গোলাপ ফুটাক
পোড়া মন আবার সতেজ হয়ে উঠুক।
আমি চেয়েছি শুধু তোমার মুখ থেকে একটি বার হলেও
প্রতিধ্বনি হয়ে বেজে উঠুক একটি শব্দ “ভালবাসি”
শুধু এতটুকুই আমি চাই, এর চেয়ে বেশি চাই না।

আমি কাদতেই এসেছি __রেদোয়ান মাসুদ

ভালোবাসি বলেই তো কাঁদাও
আমি কাদতেই এসেছি।
হাসতে আসিনি।
দেখি কতটুকু পার কাঁদাতে
আমি কাঁদতে বড় ভালোবাসি
তা যদি হয় তোমার জন্য
ভালোই হলো!
দিতে থাকো আঘাত
তোমার দেয়া প্রতিটা আঘাতই
আমার হৃদয়ের মাঝে নতুন পরশ
যেন ভোরবেলা শিশিরের ছোঁয়া।
আমি নরক থেকেই এসেছি
তাই আমাকে যন্ত্রণার ভয় দেখিয়ে
কোন লাভ নেই।
চোখের জল যত খুশি ঝরুক
প্রতি ফোটা জল থেকে যদি
একটি নদী হয়
আর নদী থেকে যদি সাগর হয়
হোক, তাতে কি?
যদি ভুল করে কোনদিন
আমার এই সাগরে চলে আস
ভয় পেয় না সেদিন
আমি তোমাকে ফিরিয়ে দিব না
তোমার চোখে এক ফোটা জলও
ঝরতে দিব না।
শুধু ভালোবাসার আলিঙ্গনে
তোমাকে নিয়ে ফিরব সেই
হারানো দিনে ।

নীরবেই কাঁদব – রেদোয়ান মাসুদ

আমি নীরবেই কাঁদব
নীরবেই হাসব,
কখনও বলব না আর
আমার কান্না পাচ্ছে দেখে যাও একবার ।
.
আমি নীরবেই জ্বলব
নীরবেই মরব
কখনও বলব না আর
মরার বেলা এই তৃষ্ণার্ত ঠোটে একফোটা জল দাও একবার।
.
আমি নীরবেই সইব
নীরবেই দেখব
কখনও বলব না আর
পোড়া হৃদয়খানি দেখে যাও একবার ।
.
আমি নীরবেই ভালোবাসব
নীরবেই হৃদয়ে রাখব
কখনও বলব না আর
কত ভালোবাসি তোমায় চেয়ে দেখ একবার ।
.
আমি নীরবেই ভাবব
নীরবেই কাছে রাখব
কখনও বলব না আর
একবার কাছে এসে দেখে যাও মুখটি আমার ।
.
আমি নীরবেই অদৃশ্য হবো
নীরবেই চলে যাব
কখনও বলব না আর
চির তরে চলে যাচ্ছি বিদায় দাও এবার ।

১০ আগস্ট ২০১৪

লালবাগ, ঢাকা

  হতাশা  __ রেদোয়ান মাসুদ

শত হতাশা ডুবাবে তোমায় হইওনা নিরাশা

কত কিছু রয়েছে বাকি বুকে বাধ আশা।

সূর্য, সে উকি দিচ্ছে মেঘের আড়ালে

ধৈর্য ধর একটু পরে মেঘ কেটে যাবে ।

নদীতে উঠেছে ঢেউ মাঝি ধরেছে হাল

শক্ত হাতে ধরিলে হাল ভাঙ্গবেনা নাওয়ের পাল ।

পেটের তারনায় ঘর ছেড়েছে তাঁরা গায়ে জড়িয়ে শাল

চেয়ে দেখ তীব্র শীতের মাঝে তাঁরা ফেলেছে নদীতে মস্ত জাল।

কত বাধা আসবে সামনে কত থাকবে পিছুটান

সবকিছু তোমার ফেলিতে হবে পিছনে যদিও যায় জান ।

আস্তা কুড়ে বাস করে সবই হইবে মিছা

সবকিছু তোমার জয় করিতে হইবে দূর করিতে হতাশা ।

কাব্যগ্রন্থঃ মায়ের ভাষা

১৬-০২-২০১৩ ইং

আজিমপুর-ঢাকা

স্বর্ণা ___রেদোয়ান মাসুদ

আমার আদরের বোন স্বর্ণা,

চোখে তার বয়ে যেত বন্যা।

কত সোহাগ, কত স্নেহ করিত সবাই,

শত সোহাগে তার কান্না থামে নাই।

সবাই ডাকছে তার মা কে,

আমিও যাব তার সাথে।

নিয়ে যাও সবাই আমার মায়ের কাছে,

এই দুনিয়ায় আমার প্রাণ যে না টিকে।

শত কান্নার পর আসত আমার কাছে,

কত বুঝাতাম তবু মানতে কি চাইত।

শত বুঝনোর পর যদি কান্না না থামিত,

কি করব উপায় আমারও চোখে জল আসিত।

বুকে জমানো ব্যথা তখন আরও বাড়িয়া যাইত,

দুই ভাই বোনের চোখে ঢল বুঝি নামিত।

বাড়িতে বসে ফোনে বলিত বোনের কাছে,

ভাইয়া যেন কিনে দেয় সবকিছু এক সাথে।

যখন যা চাইত তাই সে পাইত,

যদি একটু দেরি হত চোখে জল তার ঝরিত।

মা যখন চলে যায়, তখন সে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী,

এখন সে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছে জেগে কত রাত্রি।

সে এখন বড় হয়েছে ভিতরে তার বেদনা,

কান্না আসলেও সে আজ বুঝাতে চায় না।

সেই কথা আজ মনে পড়ে চোখে বইছে ঝর্ণা,

বোন তুই বড় হও দোয়া করি স্বর্ণা।

কাব্যগ্রন্থঃ মায়ের ভাষা

১২-০২-২০১৩ ইং

লালবাগ-ঢাকা

স্বাধীনতা  ___রেদোয়ান মাসুদ

চল্লিশ বছর পরেও মোরা পাইনি স্বাধীনতা

স্বাধীন দেশে বাস করেও মোদের কাটেনি হতাশা,

পেয়েছি শুধু পৃথিবীর বুকে একটি রঙ্গিন পতাকা

বুকে জড়িয়ে সেই পতাকা , করছি শুধুই প্রত্যাশা ।

ত্রিশ লক্ষ জীবনের বিনিময়ে এনেছিল স্বাধীনতা

আড়াই লক্ষ মা বোনদের হয়েছিল সর্বনাশা,

বুকের তাজা রক্ত দিয়ে করেছিল মুক্তির প্রত্যাশা

পরের প্রজন্ম থাকবে মুখে এই তো ছিল আশা ।

স্বাধীন দেশে  বাস করে মোরা পেয়েছি কি সেই ভাষা

যার জন্য ৫২ সালে রক্ত ঝড়েছিল তাজা ,

আজও সেই মা –বোনদের হচ্ছে সর্বনাশা

দুষ্ট লোকের মরন ছোবলে থেকে নেইকো মুক্তির আশা ।

আজও সেই স্বাধীন দেশে আটকে রেখে ফাইল পত্র-খাতা

কিছু লোক ভরছে ,পকেট পেট করছে মোটা তাজা ,

স্বাধীনতা বিরোধী সেই হানাদারদের কথা আজও মোদের জানা

ভুলাতে চাইছে সেই কথা তাঁরা , বলে ধর্মের কথা ।

সবুজ ঘাসে রক্ত পড়ে হয়েছিল লাল সবুজের পতাকা

সেই পতাকা গাড়িতে বেধে বীরের বেশে চলছে হায়নাদাররা ,

আজও সেই যুদ্ধাহতরা পাতছে মানুষের কাছে থালা

যাদের জন্য মাথা উচু করে আছি , তাদের কেনা এই অবস্থা ?

বীরঙ্গনারা  আজও কাদছে সেই হায়নাদারদের ভয়ে

মুখ খুললে যাবে জীবন স্বাধীন এই দেশে ,

স্বাধীনতার জন্য গিয়েছিল যুদ্ধে দিন, মুজুর চাষা

আজও তাদের মুখে জুলছেনা দুই মুঠো ভাত ,এই কি ছিল আশা ?

স্বাধীনতা মানে কি কিছু লোকের বুক ফুলিয়ে চলা?

স্বাধীনতা মানে কি তাদের পায়ের নিচে জনগণ ধুলা?

স্বাধীন দেশে কেন মোরা আজ ও দেখেছি পরাধীনতা?

চাইনা মোরা , চাইনা মোরা এমন স্বাধীনতা !

স্বাধীনতা দিবে বাক স্বাধীনতা , স্বাধীনতা দিবে মুক্তির বারতা

এইতো মোদের ভাষা , স্বাধীন দেশে বাস করবো মোরা মিটাবো মনের আশা।

কাব্যগ্রন্থঃ মায়ের ভাষা

০৬-০৮-২০১৩ ইং

মোড়ল কান্দি- শরীয়তপুর

সোনার ধান ___রেদোয়ান মাসুদ

আকাশে জমেছে মেঘ আসিল বর্ষা

পেকেছে ধান কাটিবে দেশের চাষা ।

খেতের দিকে চেয়ে কৃষক হাসছে মনের সুখে

দেখ দেখ সোনার ফসল ভরেছে এবার  মাঠে।

ধান কাটিতে গেল কৃষক হাতে নিয়ে কাস্তে

সোনার ধান হাতে নিয়ে কৃষক এবার হাসছে।

ধান কাটিয়া আনল তাঁরা উঠাল বাড়ির আঙ্গিনায়

বলদ লাগিয়ে এবার ধানগুলো করল মারাই।

ধানগুলো এবার উৎল তবে গৃহিনী কুলায়

চিটা ঝেড়ে ফেলে এবার ধান হল খাঁটি সোনায় ।

ধান গুলো ফলাতে তাঁরা কত ঝড়াচ্ছে শরীরের ঘাম

এই বার বুঝি পাবে তার ফসলের ন্যায্য দাম ।

ধান শুকিয়ে নিল তাঁরা গঞ্জের হাটে

ব্যাপারী, ফড়িয়ারা কৃষকের দিকে চেয়ে থাকে ।

দাম কত ভাই, দাম কত ভাই বল এবার মুখে

ধান বুঝি এবার বেশি ফলেছে সেই দাম কি এবার আছ ?

দাম শুনে এবার ধরল তবে কৃষকের মাথা

সারা বছর খেটে এবার হল সর্বনাশা ।

কাব্যগ্রন্থঃ মায়ের ভাষা

১১-০২-২০১৩ ইং

লালবাগ-ঢাকা

  শেষ যাত্রী ___রেদোয়ান মাসুদ

ভোরের পাখি করছে ডাকাডাকি

বলছে আমাদের যেন উঠি তারাতারি ।

ঐ দিকে কানে ভাসছে আজানের সূর

ঘুম থেকে উঠে সবাই তারাতারি অজুকর ।

মসজিদে ইমাম অপেক্ষায় আছে

মুসল্লিরা আসবে আজ, মসজিদ যাবে ভরে ।

নামাজ পড়ে সবাই চলে যায় যার যার বাড়ি

লাঙ্গল জোয়াল নিয়ে বের হল সবাই তারাতারি।

এই ভাবে প্রতিদিন আসে শেষ রাত্রি

উঠো সবাই নামাজ পড় ,আমরা হব একদিন শেষ যাত্রি ।

কাব্যগ্রন্থঃ মায়ের ভাষা

২৭-০২-২০১৩ ইং

লালবাগ-ঢাকা