বড়িং  ___রেদোয়ান মাসুদ

চারিদিকে সবুজে ঘেরা বন

সাল গামারি আর গর্জন।

সারাদিন ঘুরে লাগছে বড়িং

হঠাৎ করে সামনে পড়ল একটা হরিণ ।

বাবুমনি দিল তাকে একটা ঠোকান

হরিণটা রাগে জোরে করলা একটা গর্জন।

সেই শব্দে সবার যেন ফেটে যায় কান

বাবুমনি জোরে শুরু করল ক্রন্দন ।

হঠাৎ করে হেসে উঠল হরিণ

বাবু মনির থেমে গেল ক্রন্দন ।

সবাইকে করিতে আকর্ষন

হরিণটা এবার করছে তিড়িং বিড়িং

এই ভাবে আমাদের কেটে গেল বড়িং ।

বুড়ি ___রেদোয়ান মাসুদ

বুড়ি যাচ্ছে বাপের বাড়ি ,

এক হাতে তার রসের হাড়ি ,

অন্য হাতে বাশের লাঠি ,

ঠক ঠক করে তাই চলছে বুড়ি ।

পথিমধ্যে তার ধরল ক্লান্তি ,

মনটা তার তাই আজ লাগছে অশান্তি ,

রাস্তার পাশে পেল একটি বাড়ি ,

বিশ্রামের জন্য সেই বাড়িতে গেল বুড়ি ।

বারান্দায় রেখে রসের হাড়ি,

বুড়ি বলে একটু ঘুমিয়ে পড়ি ,

ঘুম থেকে যখন উঠল বুড়ি ,

খুঁজে পেলনা তার রসের হাড়ি ।

হঠাৎ দেখে দুষ্ট ছেলেরা করছে দৌড়াদৌড়ি ,

হাতে তাদের রসের হাড়ি ,

রস খেয়ে তাঁরা করছে খালি ,

বুড়ির চোখ গেল জলে ভাসি ,

শূন্য হাড়ি নিয়ে যাবেনা বাপের বাড়ি ,

মন খারাপ করে তাই ফিরল বাড়ি ।

বিন্দু মিয়া  ___রেদোয়ান মাসুদ

বিন্দু মিয়া নদীর ধারে করে খেলা সারা বেলা ,

স্কুলে যাওয়ার জন্য তার নেইকো কোন তাড়া ।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে তারাতারি করে ,

কোন রকম কিছু খেয়ে সে যায়যে নদীর ধারে ।

স্কুলে যাওয়ার জন্য বাবা কত অনুরোধ করে ,

বাবার কথা কখনও নেয়না সে কানে ।

একদিন সকাল বেলা বাবা তাকে স্কুলে যেতে বলে ,

বাবার কথা না শুনে সে যায়যে নদীর ধারে ।

এত সকালে কেউ ছিলনা নদীর আশেপাশে ,

এমন সময় হঠাৎ করে নদীর কূলে কুমির জাগে ওঠে ।

বিন্দু মিয়া নদীর ধারে ছিল খেলার সাথীদের অপেক্ষায় ,

হঠাৎ করে কুমির এসে কামড়ে ধরে তার দুই পায় ।

কোন উপায় না পেয়ে বিন্দু মিয়া চিৎকার করে জোর গলায় ,

দূর থেকে লোক আসতে আসতে কুমির নদীতে নেমে যায় ।

লোকজন এসে দেখে বিন্দু মিয়া চলে গেছে কুমিরের পেটে ,

নদীতে নেমে আর কি হবে বিন্দু মিয়া গেছে যে মরে ।

বাবার কথা না শুনে বিন্দু মিয়া অকালে গেল ঝরে ,

বাবা মা যখন বলে কিছু , বিন্দু মিয়ার কথা রেখ সবাই মনে ।

পড়তে বস ___রেদোয়ান মাসুদ

পড়তে বস পড়তে বস হয়েছে সন্ধ্যা

শিক্ষক যখন ধরবে পড়া

চোখে আসবে শত কান্না ।

পড়ার জন্য শিক্ষক যখন করেবে রাগ

মনটা তখন হবে খারাপ

করবে কত বিলাপ ।

আজকে মোরে কর ক্ষমা

কালকে পড়ে আসব সকল পড়া

এই কথা বলে তখন ধরে আসবে গলা ।

পড়া লেখা নিজের জন্য

শিক্ষকের রাগের জন্য নয়

সন্ধ্যা হয়েছে এখন নেইকো ঘোরার সময় ।

বই হাতে নিয়ে বস এখন

কালকে পারবে পড়া

পরশুর জন্য তাই শিক্ষকের কাছে চাইতে হবে না ক্ষমা ।

হাড়ি পাতিল ___রেদোয়ান মাসুদ

খোকাখুকি খেলছে আজ হাড়ি পাতিল নিয়ে

চুলার উপর রেখে পাতিল দিয়েছে আগুন জ্বালিয়ে।

ভাত চুলায় বসিয়ে তাঁরা কাটছে তরকারি,

ঐদিকে চেয়ারে বসে ছোট্টমনি করছে খবরদারি ।

চালগুলো ফুটে গেছে তাই করছে গরগর

খোকাখুকি আসছে গালিতে ভাতের মার ।

কয়টি ভাত উঠিয়ে তাঁরা দেখল টিপ দিয়ে

ভাত রান্না হয়ে গেছে তাই ফেলল নামিয়ে ।

তরকারি চড়াল তাঁরা ছোট্ট কড়াইয়ে

চামিচ দিয়ে নাড়ছে তা যেন না যায় পুড়ে ।

তরকারি রান্না শেষে কড়াইতে দিল মাংস

মাংসের গন্ধে এবার পুরো পড়াতে পৌঁছল ।

মাংস রান্না মজা হয়েছে তাইতো সবার জিহবায় এসেছে পানি

ঐদিকে খোকাখুকি সবার জন্য পেতেছে বড় পাটি ।

ভাত মাংস খেয়ে সবাই উঠছে আনন্দে মেতে

পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবছে আজকে হবে যেতে ।

কালকে আবার এসো সবাই এই কথা বলে

হাড়ি পাতিল নিয়ে খোকাখুকি বাড়িতে গেল চলে ।

পরীর দেশ

__রেদোয়ান মাসুদ

আয়রে তোরা,আয়রে তোরা

আয়রে দলে দলে,

পরীর দেশে যাব মোরা

ডানায় ভর করে।

পরীর দেশ দেখতে সুন্দর

প্রকৃতি মেলেছে ডানা,

সেই দেশ সম্পর্কে নেইকো মোদের

অনেক কিছুই জানা।

দেখব মোরা পরীর দেশ

দু’চোখ ভরিয়া,

অনেক কিছু হবে জানা

পরীদের আস্তানা।

ফিরব মোরা মনের আনন্দে

সেই ডানায় ভর করে,

কত মানুষ দেখবে মোদের

অবাক চোখে তাকিয়ে।