নীরবেই কাঁদব – রেদোয়ান মাসুদ

আমি নীরবেই কাঁদব
নীরবেই হাসব,
কখনও বলব না আর
আমার কান্না পাচ্ছে দেখে যাও একবার ।
.
আমি নীরবেই জ্বলব
নীরবেই মরব
কখনও বলব না আর
মরার বেলা এই তৃষ্ণার্ত ঠোটে একফোটা জল দাও একবার।
.
আমি নীরবেই সইব
নীরবেই দেখব
কখনও বলব না আর
পোড়া হৃদয়খানি দেখে যাও একবার ।
.
আমি নীরবেই ভালোবাসব
নীরবেই হৃদয়ে রাখব
কখনও বলব না আর
কত ভালোবাসি তোমায় চেয়ে দেখ একবার ।
.
আমি নীরবেই ভাবব
নীরবেই কাছে রাখব
কখনও বলব না আর
একবার কাছে এসে দেখে যাও মুখটি আমার ।
.
আমি নীরবেই অদৃশ্য হবো
নীরবেই চলে যাব
কখনও বলব না আর
চির তরে চলে যাচ্ছি বিদায় দাও এবার ।

১০ আগস্ট ২০১৪

লালবাগ, ঢাকা

বড়িং  ___রেদোয়ান মাসুদ

চারিদিকে সবুজে ঘেরা বন

সাল গামারি আর গর্জন।

সারাদিন ঘুরে লাগছে বড়িং

হঠাৎ করে সামনে পড়ল একটা হরিণ ।

বাবুমনি দিল তাকে একটা ঠোকান

হরিণটা রাগে জোরে করলা একটা গর্জন।

সেই শব্দে সবার যেন ফেটে যায় কান

বাবুমনি জোরে শুরু করল ক্রন্দন ।

হঠাৎ করে হেসে উঠল হরিণ

বাবু মনির থেমে গেল ক্রন্দন ।

সবাইকে করিতে আকর্ষন

হরিণটা এবার করছে তিড়িং বিড়িং

এই ভাবে আমাদের কেটে গেল বড়িং ।

বুড়ি ___রেদোয়ান মাসুদ

বুড়ি যাচ্ছে বাপের বাড়ি ,

এক হাতে তার রসের হাড়ি ,

অন্য হাতে বাশের লাঠি ,

ঠক ঠক করে তাই চলছে বুড়ি ।

পথিমধ্যে তার ধরল ক্লান্তি ,

মনটা তার তাই আজ লাগছে অশান্তি ,

রাস্তার পাশে পেল একটি বাড়ি ,

বিশ্রামের জন্য সেই বাড়িতে গেল বুড়ি ।

বারান্দায় রেখে রসের হাড়ি,

বুড়ি বলে একটু ঘুমিয়ে পড়ি ,

ঘুম থেকে যখন উঠল বুড়ি ,

খুঁজে পেলনা তার রসের হাড়ি ।

হঠাৎ দেখে দুষ্ট ছেলেরা করছে দৌড়াদৌড়ি ,

হাতে তাদের রসের হাড়ি ,

রস খেয়ে তাঁরা করছে খালি ,

বুড়ির চোখ গেল জলে ভাসি ,

শূন্য হাড়ি নিয়ে যাবেনা বাপের বাড়ি ,

মন খারাপ করে তাই ফিরল বাড়ি ।

বিন্দু মিয়া  ___রেদোয়ান মাসুদ

বিন্দু মিয়া নদীর ধারে করে খেলা সারা বেলা ,

স্কুলে যাওয়ার জন্য তার নেইকো কোন তাড়া ।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে তারাতারি করে ,

কোন রকম কিছু খেয়ে সে যায়যে নদীর ধারে ।

স্কুলে যাওয়ার জন্য বাবা কত অনুরোধ করে ,

বাবার কথা কখনও নেয়না সে কানে ।

একদিন সকাল বেলা বাবা তাকে স্কুলে যেতে বলে ,

বাবার কথা না শুনে সে যায়যে নদীর ধারে ।

এত সকালে কেউ ছিলনা নদীর আশেপাশে ,

এমন সময় হঠাৎ করে নদীর কূলে কুমির জাগে ওঠে ।

বিন্দু মিয়া নদীর ধারে ছিল খেলার সাথীদের অপেক্ষায় ,

হঠাৎ করে কুমির এসে কামড়ে ধরে তার দুই পায় ।

কোন উপায় না পেয়ে বিন্দু মিয়া চিৎকার করে জোর গলায় ,

দূর থেকে লোক আসতে আসতে কুমির নদীতে নেমে যায় ।

লোকজন এসে দেখে বিন্দু মিয়া চলে গেছে কুমিরের পেটে ,

নদীতে নেমে আর কি হবে বিন্দু মিয়া গেছে যে মরে ।

বাবার কথা না শুনে বিন্দু মিয়া অকালে গেল ঝরে ,

বাবা মা যখন বলে কিছু , বিন্দু মিয়ার কথা রেখ সবাই মনে ।

পড়তে বস ___রেদোয়ান মাসুদ

পড়তে বস পড়তে বস হয়েছে সন্ধ্যা

শিক্ষক যখন ধরবে পড়া

চোখে আসবে শত কান্না ।

পড়ার জন্য শিক্ষক যখন করেবে রাগ

মনটা তখন হবে খারাপ

করবে কত বিলাপ ।

আজকে মোরে কর ক্ষমা

কালকে পড়ে আসব সকল পড়া

এই কথা বলে তখন ধরে আসবে গলা ।

পড়া লেখা নিজের জন্য

শিক্ষকের রাগের জন্য নয়

সন্ধ্যা হয়েছে এখন নেইকো ঘোরার সময় ।

বই হাতে নিয়ে বস এখন

কালকে পারবে পড়া

পরশুর জন্য তাই শিক্ষকের কাছে চাইতে হবে না ক্ষমা ।

হাড়ি পাতিল ___রেদোয়ান মাসুদ

খোকাখুকি খেলছে আজ হাড়ি পাতিল নিয়ে

চুলার উপর রেখে পাতিল দিয়েছে আগুন জ্বালিয়ে।

ভাত চুলায় বসিয়ে তাঁরা কাটছে তরকারি,

ঐদিকে চেয়ারে বসে ছোট্টমনি করছে খবরদারি ।

চালগুলো ফুটে গেছে তাই করছে গরগর

খোকাখুকি আসছে গালিতে ভাতের মার ।

কয়টি ভাত উঠিয়ে তাঁরা দেখল টিপ দিয়ে

ভাত রান্না হয়ে গেছে তাই ফেলল নামিয়ে ।

তরকারি চড়াল তাঁরা ছোট্ট কড়াইয়ে

চামিচ দিয়ে নাড়ছে তা যেন না যায় পুড়ে ।

তরকারি রান্না শেষে কড়াইতে দিল মাংস

মাংসের গন্ধে এবার পুরো পড়াতে পৌঁছল ।

মাংস রান্না মজা হয়েছে তাইতো সবার জিহবায় এসেছে পানি

ঐদিকে খোকাখুকি সবার জন্য পেতেছে বড় পাটি ।

ভাত মাংস খেয়ে সবাই উঠছে আনন্দে মেতে

পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবছে আজকে হবে যেতে ।

কালকে আবার এসো সবাই এই কথা বলে

হাড়ি পাতিল নিয়ে খোকাখুকি বাড়িতে গেল চলে ।

  হতাশা  __ রেদোয়ান মাসুদ

শত হতাশা ডুবাবে তোমায় হইওনা নিরাশা

কত কিছু রয়েছে বাকি বুকে বাধ আশা।

সূর্য, সে উকি দিচ্ছে মেঘের আড়ালে

ধৈর্য ধর একটু পরে মেঘ কেটে যাবে ।

নদীতে উঠেছে ঢেউ মাঝি ধরেছে হাল

শক্ত হাতে ধরিলে হাল ভাঙ্গবেনা নাওয়ের পাল ।

পেটের তারনায় ঘর ছেড়েছে তাঁরা গায়ে জড়িয়ে শাল

চেয়ে দেখ তীব্র শীতের মাঝে তাঁরা ফেলেছে নদীতে মস্ত জাল।

কত বাধা আসবে সামনে কত থাকবে পিছুটান

সবকিছু তোমার ফেলিতে হবে পিছনে যদিও যায় জান ।

আস্তা কুড়ে বাস করে সবই হইবে মিছা

সবকিছু তোমার জয় করিতে হইবে দূর করিতে হতাশা ।

কাব্যগ্রন্থঃ মায়ের ভাষা

১৬-০২-২০১৩ ইং

আজিমপুর-ঢাকা

স্বর্ণা ___রেদোয়ান মাসুদ

আমার আদরের বোন স্বর্ণা,

চোখে তার বয়ে যেত বন্যা।

কত সোহাগ, কত স্নেহ করিত সবাই,

শত সোহাগে তার কান্না থামে নাই।

সবাই ডাকছে তার মা কে,

আমিও যাব তার সাথে।

নিয়ে যাও সবাই আমার মায়ের কাছে,

এই দুনিয়ায় আমার প্রাণ যে না টিকে।

শত কান্নার পর আসত আমার কাছে,

কত বুঝাতাম তবু মানতে কি চাইত।

শত বুঝনোর পর যদি কান্না না থামিত,

কি করব উপায় আমারও চোখে জল আসিত।

বুকে জমানো ব্যথা তখন আরও বাড়িয়া যাইত,

দুই ভাই বোনের চোখে ঢল বুঝি নামিত।

বাড়িতে বসে ফোনে বলিত বোনের কাছে,

ভাইয়া যেন কিনে দেয় সবকিছু এক সাথে।

যখন যা চাইত তাই সে পাইত,

যদি একটু দেরি হত চোখে জল তার ঝরিত।

মা যখন চলে যায়, তখন সে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী,

এখন সে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছে জেগে কত রাত্রি।

সে এখন বড় হয়েছে ভিতরে তার বেদনা,

কান্না আসলেও সে আজ বুঝাতে চায় না।

সেই কথা আজ মনে পড়ে চোখে বইছে ঝর্ণা,

বোন তুই বড় হও দোয়া করি স্বর্ণা।

কাব্যগ্রন্থঃ মায়ের ভাষা

১২-০২-২০১৩ ইং

লালবাগ-ঢাকা

স্বাধীনতা  ___রেদোয়ান মাসুদ

চল্লিশ বছর পরেও মোরা পাইনি স্বাধীনতা

স্বাধীন দেশে বাস করেও মোদের কাটেনি হতাশা,

পেয়েছি শুধু পৃথিবীর বুকে একটি রঙ্গিন পতাকা

বুকে জড়িয়ে সেই পতাকা , করছি শুধুই প্রত্যাশা ।

ত্রিশ লক্ষ জীবনের বিনিময়ে এনেছিল স্বাধীনতা

আড়াই লক্ষ মা বোনদের হয়েছিল সর্বনাশা,

বুকের তাজা রক্ত দিয়ে করেছিল মুক্তির প্রত্যাশা

পরের প্রজন্ম থাকবে মুখে এই তো ছিল আশা ।

স্বাধীন দেশে  বাস করে মোরা পেয়েছি কি সেই ভাষা

যার জন্য ৫২ সালে রক্ত ঝড়েছিল তাজা ,

আজও সেই মা –বোনদের হচ্ছে সর্বনাশা

দুষ্ট লোকের মরন ছোবলে থেকে নেইকো মুক্তির আশা ।

আজও সেই স্বাধীন দেশে আটকে রেখে ফাইল পত্র-খাতা

কিছু লোক ভরছে ,পকেট পেট করছে মোটা তাজা ,

স্বাধীনতা বিরোধী সেই হানাদারদের কথা আজও মোদের জানা

ভুলাতে চাইছে সেই কথা তাঁরা , বলে ধর্মের কথা ।

সবুজ ঘাসে রক্ত পড়ে হয়েছিল লাল সবুজের পতাকা

সেই পতাকা গাড়িতে বেধে বীরের বেশে চলছে হায়নাদাররা ,

আজও সেই যুদ্ধাহতরা পাতছে মানুষের কাছে থালা

যাদের জন্য মাথা উচু করে আছি , তাদের কেনা এই অবস্থা ?

বীরঙ্গনারা  আজও কাদছে সেই হায়নাদারদের ভয়ে

মুখ খুললে যাবে জীবন স্বাধীন এই দেশে ,

স্বাধীনতার জন্য গিয়েছিল যুদ্ধে দিন, মুজুর চাষা

আজও তাদের মুখে জুলছেনা দুই মুঠো ভাত ,এই কি ছিল আশা ?

স্বাধীনতা মানে কি কিছু লোকের বুক ফুলিয়ে চলা?

স্বাধীনতা মানে কি তাদের পায়ের নিচে জনগণ ধুলা?

স্বাধীন দেশে কেন মোরা আজ ও দেখেছি পরাধীনতা?

চাইনা মোরা , চাইনা মোরা এমন স্বাধীনতা !

স্বাধীনতা দিবে বাক স্বাধীনতা , স্বাধীনতা দিবে মুক্তির বারতা

এইতো মোদের ভাষা , স্বাধীন দেশে বাস করবো মোরা মিটাবো মনের আশা।

কাব্যগ্রন্থঃ মায়ের ভাষা

০৬-০৮-২০১৩ ইং

মোড়ল কান্দি- শরীয়তপুর

সোনার ধান ___রেদোয়ান মাসুদ

আকাশে জমেছে মেঘ আসিল বর্ষা

পেকেছে ধান কাটিবে দেশের চাষা ।

খেতের দিকে চেয়ে কৃষক হাসছে মনের সুখে

দেখ দেখ সোনার ফসল ভরেছে এবার  মাঠে।

ধান কাটিতে গেল কৃষক হাতে নিয়ে কাস্তে

সোনার ধান হাতে নিয়ে কৃষক এবার হাসছে।

ধান কাটিয়া আনল তাঁরা উঠাল বাড়ির আঙ্গিনায়

বলদ লাগিয়ে এবার ধানগুলো করল মারাই।

ধানগুলো এবার উৎল তবে গৃহিনী কুলায়

চিটা ঝেড়ে ফেলে এবার ধান হল খাঁটি সোনায় ।

ধান গুলো ফলাতে তাঁরা কত ঝড়াচ্ছে শরীরের ঘাম

এই বার বুঝি পাবে তার ফসলের ন্যায্য দাম ।

ধান শুকিয়ে নিল তাঁরা গঞ্জের হাটে

ব্যাপারী, ফড়িয়ারা কৃষকের দিকে চেয়ে থাকে ।

দাম কত ভাই, দাম কত ভাই বল এবার মুখে

ধান বুঝি এবার বেশি ফলেছে সেই দাম কি এবার আছ ?

দাম শুনে এবার ধরল তবে কৃষকের মাথা

সারা বছর খেটে এবার হল সর্বনাশা ।

কাব্যগ্রন্থঃ মায়ের ভাষা

১১-০২-২০১৩ ইং

লালবাগ-ঢাকা